বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উন্নয়নশীল দেশে মূল্যস্ফীতির বাড়তি চাপ ও ২১ শতকের সবচেয়ে দুর্বল দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ওপর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত।
২১ শতকের সবচেয়ে দুর্বল দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস, জ্বালানি মূল্যই বড় চ্যালেঞ্জ
বিশ্বব্যাংকের ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ২০০০ সালের পর সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থিতিশীল হলেও উন্নয়নশীল দেশগুলো ধনী দেশগুলোর আয়ের স্তরে পৌঁছাতে ধীরগতির অগ্রগতি করবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ।
মূল্যস্ফীতির বাড়তি চাপ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়বে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলো খাদ্য ও জ্বালানি খাতে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির সম্মুখীন হচ্ছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতি ২.৭ শতাংশ হারে সম্প্রসারিত হলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ শতাংশ স্থিতিশীল থাকবে - যা মহামারিপূর্ব সময়ের চেয়েও দুর্বল ।
বিগত দুই দশকের তুলনামূলক চিত্র
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০০০-এর দশকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.৯ শতাংশ, যা ২০১০-এর দশকে ৫.১ শতাংশ এবং ২০২০-এর দশকে ৩.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০১৪ সালের পর থেকে চীন ও ভারত ব্যতীত অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মাথাপিছু আয়ের প্রবৃদ্ধি ধনী দেশগুলোর তুলনায় অর্ধ শতাংশ পয়েন্ট কম ছিল ।
বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতামত
বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন অর্থনীতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইন্দ্রমিত গিল বলেন, “পরবর্তী ২৫ বছর উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আগের ২৫ বছরের চেয়ে কঠিন হবে। আগে যেসব শক্তি তাদের উত্থানে সহায়তা করেছিল, তার বেশির ভাগই বিলুপ্ত হয়েছে। উচ্চ ঋণের বোঝা, দুর্বল বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীলতার প্রবৃদ্ধি, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান খরচ - এগুলো এখন বড় চ্যালেঞ্জ।”
বাংলাদেশের অবস্থান
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলো এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির ৪৫ শতাংশ (২০০০ সালে ছিল ২৫ শতাংশ) এবং বৈশ্বিক রেমিট্যান্সের ৪০ শতাংশের উৎস। বাংলাদেশও এই অর্থনৈতিক বাস্তবতার অংশ। বিশ্বব্যাংকের ডেপুটি চিফ ইকোনমিস্ট এম. আয়হান কোসে বলেন, “নীতি অনিশ্চয়তা ও বাণিজ্য উত্তেজনায় জর্জরিত বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাহসী ও সুদূরপ্রসারী নীতি প্রয়োজন।”
সূত্র: বিশ্বব্যাংক, নিউ এজ বিডি
