Press Flash 24 বাংলাদেশের সর্বাধিক পঠিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল। দেশের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সহ সকল বিভাগের খবর ২৪/৭ প্রকাশিত হয়।

বাংলাদেশের সেরা অনলাইন নিউজ পোর্টাল

সর্বশেষ সংবাদ ও ব্রেকিং নিউজ

দেশের সকল বিভাগের খবর

প্রেস ফ্ল্যাশ ২৪ - বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল। এখানে আপনি পাবেন দেশের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতির খবর, অর্থনীতির খবর, আন্তর্জাতিক সংবাদ, খেলাধুলার খবর, বিনোদনের খবর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির খবর, শিক্ষার খবর, স্বাস্থ্যের খবর, আইন-আদালতের খবর, অপরাধের খবর, পরিবেশের খবর, কৃষির খবর, ব্যবসা-বাণিজ্যের খবর, জীবনযাপনের খবর, ধর্মের খবর, সংস্কৃতির খবর, সাহিত্যের খবর, চাকরির খবর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খবর, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার খবর, পিএসসি পরীক্ষার খবর, বিসিএস পরীক্ষার খবর, ব্যাংক জবের খবর, সরকারি চাকরির খবর, বেসরকারি চাকরির খবর, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সহ সকল খবর ২৪/৭ পাবেন।

আমাদের লক্ষ্য দ্রুত ও নির্ভুল সংবাদ পরিবেশন করা। আমরা সর্বদা সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনে বিশ্বাসী। প্রেস ফ্ল্যাশ ২৪ - আপনার বিশ্বস্ত সংবাদ মাধ্যম।

বৈশ্বিক তাপমাত্রার বেশ বড় পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা


বৈশ্বিক তাপমাত্রার বড় পরিবর্তন: বিজ্ঞানীরা যা বলছেন
প্রতিকী আবহাওযার ছবি

গত কয়েক বছর ধরে পৃথিবী জুড়ে যে অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ দেখা যাচ্ছে, তা শুধু আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা নয় - বরং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের গতিতেই বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে বলে নিশ্চিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৫ সাল থেকে পৃথিবী আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হারে উত্তপ্ত হচ্ছে।

উষ্ণায়নের গতি বেড়েছে যা ছিল তার চেয়ে দ্বিগুণ

পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের (পিআইকে) বিজ্ঞানীরা সম্প্রতিজিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্সজার্নালে একটি গবেষণা প্রকাশ করেছেন, যা জলবায়ু বিজ্ঞানের জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে 

গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ১৯৭০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পৃথিবী প্রতি দশকে গড়ে ০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে উষ্ণায়িত হচ্ছিল। কিন্তু ২০১৫ সালের পর এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি দশকে ০.৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে - যা আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ 

গবেষণার সহ-লেখক . গ্রান্ট ফস্টার বলছেন, “আমরা এখন প্রথমবারের মতো পরিসংখ্যানগতভাবে প্রমাণ করতে পারছি যে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন উল্লেখযোগ্য হারে ত্বরান্বিত হয়েছে।ফস্টার জানান, গত ১০ বছরে পৃথিবী যে হারে উত্তপ্ত হচ্ছে, তা ১৮৮০ সালে রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে যেকোনো দশকের চেয়ে বেশি 

গোলমালদূর করে দেখা গেছে বাস্তব চিত্র

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই জানতেন যে পৃথিবী উষ্ণ হচ্ছে, কিন্তু এই উষ্ণায়নের গতি বাড়ছে কি না, তা নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। কারণ এল নিনো, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং সৌরচক্রের মতো প্রাকৃতিক বিষয়গুলো তাপমাত্রার তথ্যেগোলমালসৃষ্টি করত 

গবেষক দল এই সমস্যা সমাধানে পাঁচটি বড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা ডেটাসেট (নাসা, এনওএএ, হ্যাডসিআরইউটি, বার্কলে আর্থ এবং ইআরএ৫) ব্যবহার করেন। তারা পরিসংখ্যানগত পদ্ধতিতে এল নিনো, আগ্নেয়গিরি এবং সৌরবিবর্তনের প্রভাব বাদ দিয়ে আসল উষ্ণায়নের ধারা বের করেন 

ফলে দেখা যায়, এই প্রাকৃতিক প্রভাবগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর উষ্ণায়নের হার স্পষ্টভাবে চোখে পড়ার মতো বেড়ে গেছেযার পরিসংখ্যানগত নিশ্চয়তা ৯৮ শতাংশেরও বেশি 

অর্থাৎ ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের অস্বাভাবিক গরমের পেছনে এল নিনোর প্রভাব থাকলেও, তা সরিয়ে নেওয়ার পরও এই দুই বছর ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবেই রয়ে গেছে 

প্যারিস চুক্তির ১.৫ ডিগ্রি সীমা অতিক্রমের সময় ঘনিয়ে আসছে

গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক অংশ হলো প্যারিস জলবায়ু চুক্তির ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা অতিক্রমের পূর্বাভাস।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি বর্তমান হারে উষ্ণায়ন অব্যাহত থাকে, তাহলে ২০৩০ সালের মধ্যেই দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে ১.৫ ডিগ্রি সীমা অতিক্রম হয়ে যাবে। বিভিন্ন ডেটাসেটের হিসেবে এই সময়সীমা ২০২৬ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে 

গবেষণার প্রধান লেখক . স্টিফান রামস্টর্ফ সতর্ক করে বলেন, “পৃথিবী কত দ্রুত উত্তপ্ত হবে, তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে আমরা কত দ্রুত জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নির্গমন শূন্যে নামাতে পারি তার ওপর।” 

তবে সব বিজ্ঞানী একমত নন

গবেষণাটি প্রকাশের পর জলবায়ু বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতবিরোধও তৈরি হয়েছে। লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিয়ার্স ফরস্টার বলছেন, ‘ত্বরান্বিতশব্দটি গাণিতিকভাবে প্রমাণ করা কঠিন। তিনিঅভূতপূর্ব হারে উষ্ণায়নকথাটি ব্যবহার করাই বেশি যুক্তিযুক্ত মনে করেন 

অন্যদিকে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল মান মনে করেন, গত ১০ বছরে উষ্ণায়নের হার ত্বরান্বিত হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। তার মতে, ১৯৭০-এর দশক থেকে উষ্ণায়ন মোটামুটি স্থিতিশীল হারে বাড়ছে, যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক 

বার্কলে আর্থের বিজ্ঞানী . জেক হাউজফেদার বলেন, “তাপমাত্রার তথ্য থেকে এল নিনোর প্রভাব বাদ দেওয়া বিজ্ঞানের কঠিনতম একটি কাজ। আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারছি না যে গত দশকে উষ্ণায়নের হার ০.৩৫ ডিগ্রি, এটা ০.২৭ ডিগ্রিও হতে পারে।” 

আর্কটিকের বরফ গলছে রেকর্ড হারে, অন্য প্রান্তে চরম শীত

উষ্ণায়নের এই ত্বরণের প্রমাণ শুধু তাপমাত্রার তথ্যে নয়, মেরু অঞ্চলেও স্পষ্ট। ন্যাশনাল স্নো অ্যান্ড আইস ডেটা সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শীতকালে আর্কটিক মহাসাগরে বরফের সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল ৫.৫২ মিলিয়ন বর্গমাইল, যা ১৯৮১-২০১০ সালের শীতকালীন গড়ের চেয়ে প্রায় ৫,২৫,০০০ বর্গমাইল (টেক্সাস রাজ্যের প্রায় দ্বিগুণ আয়তন) কম 

বরফের এই পরিমাণ গত বছরের রেকর্ডের সমান, অর্থাৎ আর্কটিকের শীতকালীন বরফের আয়তন এখন সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে।

ন্যাশনাল স্নো অ্যান্ড আইস ডেটা সেন্টারের বিজ্ঞানী ওয়াল্ট মাইয়ার ব্যাখ্যা করেন, “তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে, বিশেষ করে মেরু অঞ্চলে, বরফ জমার সুযোগ কমে যায়। এটা কোনো হঠাৎ পরিবর্তন নয়, বরং ধারাবাহিক পরিবর্তনের অংশ।” 

আর্কটিকের এই অবস্থার বিপরীতে, পৃথিবীর অপর প্রান্তে ঘটছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনা। ২৪ মার্চ, ২০২৬- অ্যান্টার্কটিকার ভস্টক স্টেশনে তাপমাত্রা নেমেছে -৭৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ইতিহাসে মার্চ মাসের সবচেয়ে কম তাপমাত্রা 

এই বিপরীত চিত্র পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থার জটিলতাকেই তুলে ধরে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, অ্যান্টার্কটিকার আশপাশের বায়ুমণ্ডলীয় নদী (অ্যাটমোস্ফিয়ারিক রিভার) দৈনিক বৈশ্বিক তাপমাত্রার ওঠানামার জন্য দায়ী। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রেকর্ড তাপপ্রবাহের পেছনেও এই প্রক্রিয়া কাজ করেছিল 

স্থায়ী তুষার গলছে, বাড়ছে অর্থনৈতিক ঝুঁকিও

শুধু বরফের পরিমাণ কমছে না, স্থায়ী তুষার (পারমাফ্রস্ট) গলার গতিও বাড়ছে। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর অ্যাপ্লাইড সিস্টেমস অ্যানালাইসিসের গবেষকদের মতে, স্থায়ী তুষার গলার কারণে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড মিথেন জলবায়ু ব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে 

গবেষকরা সতর্ক করে বলছেন, স্থায়ী তুষার ধীরে ধীরে গলা (গ্র্যাজুয়াল ) যেমন সমস্যা তৈরি করে, তেমনি আকস্মিক গলন (অ্যাব্রাপট ) আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। এই বিষয়টি এখন পর্যন্ত অনেক জলবায়ু মডেলেই উপেক্ষিত ছিল, ফলে ঝুঁকি মূল্যায়নে বড় ধরনের ফাঁক থেকে যাচ্ছে 

বিশ্ব উষ্ণায়ন বাংলাদেশ: কেন এই খবর গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশের জন্য এই গবেষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর শীর্ষে বাংলাদেশের অবস্থান। যদি বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সীমা অতিক্রম করে, তাহলে নিম্নোক্ত প্রভাবগুলো আরও তীব্র আকার ধারণ করবে:

(১) সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি: উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বাড়বে, বসতভিটা কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়বে।

(২) চরম আবহাওয়া: ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা আকস্মিক বৃষ্টির প্রকোপ বাড়বে।

(৩) তাপপ্রবাহ: ইতিমধ্যে গ্রীষ্মকালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা যাচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি কৃষি উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে।

(৪) নদ-নদীর পরিবর্তন: হিমালয়ের বরফ গলার গতি বাড়লে ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা পদ্মার পানিপ্রবাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।

জলবায়ু গবেষকরা বলছেন, এই গবেষণা বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। অভিযোজন প্রশমনদুটি ক্ষেত্রেই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এখনই।

উপসংহার: প্রমাণ স্পষ্ট, এখন সময় পদক্ষেপের

বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত হয়েছে কি না, এই প্রশ্ন নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও, একটি বিষয়ে তারা সবাই একমত: পৃথিবী উষ্ণ হচ্ছে, এবং এই উষ্ণায়নের মূল চালিকা শক্তি মানবসৃষ্ট কার্বন নির্গমন।

পটসডাম ইনস্টিটিউটের গবেষণাটি যেমন দেখিয়েছে, প্রাকৃতিকগোলমালদূর করে দেখলে উষ্ণায়নের হার স্পষ্টভাবে চোখে পড়ার মতো বেড়ে গেছে। আর্কটিকের বরফ গলে রেকর্ড সৃষ্টি করছে, অ্যান্টার্কটিকায় চরম তাপমাত্রার বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে, আর স্থায়ী তুষার গলার ফলে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য এই গবেষণা একটি জরুরি ঘণ্টা। দেরি না করে অভিযোজন প্রশমনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

Post a Comment

Previous Post Next Post