![]() |
| ছবি: NDTV |
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের রাস লাফান এলএনজি স্থাপনা বিধ্বস্ত হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব ও বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহ সংকট নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।
রাস লাফান শিল্প এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম লাফিয়ে বৃদ্ধি
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোর মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর একটি—কাতারের রাস লাফান শিল্প এলাকা—বিধ্বস্ত হয়েছে। কাতার এনার্জি এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছে, হামলায় স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ।
গত ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় সংঘটিত এই হামলায় অবিলম্বে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। কোম্পানি জানিয়েছে, হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে দুটি এলএনজি প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে ।
কাতারের কঠোর প্রতিক্রিয়া
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই হামলা বিপজ্জনক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি।”
কাতার জানিয়েছে, সংঘাতে নিরপেক্ষ থাকা সত্ত্বেও ইরান তাদের ওপর এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ‘দায়িত্বহীনভাবে’ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ন করছে। কাতার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ২৮১৭ লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ।
বাংলাদেশের ওপর প্রভাব
এই হামলার ফলে বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পেট্রোবাংলার আমদানি পরিকল্পনায় থাকা এপ্রিলের সাতটি এলএনজি চালান বাতিল করা হয়েছে। স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম ইতিমধ্যে ৩০-৩৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এই সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ বাড়ার পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
সূত্র: কাতার এনার্জি, বার্নামা, আনাদোলু এজেন্সি
