মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে জ্বালানি তেল ও এলএনজিবাহী জাহাজ। এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিস্তারিত প্রতিবেদন।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যেই স্বস্তির খবর, এলএনজি সরবরাহে সক্ষমতা বজায় রাখার উদ্যোগ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই স্বস্তির খবর দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে ৩১ হাজার ২০৩ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের একটি জাহাজ বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে । সিঙ্গাপুর থেকে আসা এই জাহাজটি ইতিমধ্যে কুতুবদিয়া চ্যানেলে নোঙ্গর করেছে ।
আগামী মঙ্গলবার ‘এমটি পিভিটি সেলানা’ আরও ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছাবে। মালয়েশিয়া থেকে তেল নিয়ে আসছে জাহাজটি ।
এছাড়া এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ‘এইচএল পাফিন’ নামের জাহাজটি ৬১ হাজার ৯৭৮ টন এলএনজি নিয়ে বৃহস্পতিবার বন্দরের বর্হিনোঙ্গরে পৌঁছেছে। শুক্রবার ‘নিউ ব্রেভ’ নামের আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ ৬১ হাজার ৫৫১ টন এলএনজি নিয়ে বন্দরে এসেছে । আগামী ৪ এপ্রিল ‘সেলসিয়াস গ্যালাপোগোস’ নামের আরেকটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬৯ হাজার ৮৮১ টন এলএনজি নিয়ে আসার কথা রয়েছে ।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফাত হামিম বলেন, “গত এক মাসে মোট ২৯টি জাহাজ জ্বালানি তেল, এলএনজি ও এলপিজি নিয়ে দেশে এসেছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী পার হয়ে এবং অন্য পথে গেল এসব জাহাজ” ।
বাংলাদেশে বছরে গড়ে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেলের প্রয়োজন। চাহিদার ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আমদানি করা হয়। বাকি ৮০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিশোধিত অবস্থায় আনা হয় সিঙ্গাপুর, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ সাতটি দেশ থেকে ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার অ্যান্ড মেরিন) কমোডর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ জানান, জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর চলাচল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সময়মতো জাহাজ বার্থিং ও পণ্য খালাস নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড বাইরের নোঙ্গরে জ্বালানি জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে ।
চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যানুযায়ী, মার্চ মাসে এখন পর্যন্ত ২৮টি জাহাজ মোট ৭ লাখ ৯০ হাজার ৭৪০ টন জ্বালানি পণ্য নিয়ে এসেছে । এর মধ্যে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯ টন এলএনজি, ৩৯ হাজার ৭১৬ টন এলপিজি, ৭৮ হাজার ২৫ টন হাই সালফার ফুয়েল অয়েল, ১ লাখ ৭৬ হাজার ২০২ টন গ্যাস অয়েল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য রয়েছে । এসব জাহাজ এসেছে কাতার, অস্ট্রেলিয়া, অ্যাঙ্গোলা, মালয়েশিয়া, ভারত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া থেকে, যা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় উৎসের বৈচিত্র্যের গুরুত্ব তুলে ধরে ।
