ঈদের ফিরতি যাত্রাতেও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢাকামুখী যাত্রীরা। ১১ দিনে সড়কে প্রাণহানি ২৭৪, বাড়তি ভাড়া ও যানজটে নাজেহাল সাধারণ যাত্রী। বিস্তারিত জানুন এই প্রতিবেদনে।
ঈদের ফিরতি যাত্রাতেও বাড়তি ভাড়া ও যানজট, ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢাকামুখী যাত্রীরা
ঈদযাত্রায় প্রাণহানির করুণ রেকর্ড হয়েছে এ বছর। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে, গত ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ১০ দিনে দেশের বিভিন্ন সড়কে ৩৪২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৭৪ জন । গত বছর ১১ দিনের ঈদযাত্রায় নিহতের সংখ্যা ছিল ২৪৯ জন। এ বছর ১০ দিনেই সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ।
ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ অব্যবস্থাপনা। আমাদের এখানে ভালো ব্যবস্থাপনাই গড়ে ওঠেনি। ন্যূনতম যে ব্যবস্থাপনা ছিল, তা এবার ভেঙে পড়েছে।”
কয়েকটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা এ সংখ্যাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। গত ২১ মার্চ রাতে কুমিল্লায় বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হন । তার আগে ১৯ মার্চ সদরঘাটে দুটি লঞ্চের সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে, যেখানে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে ২৬ জনের মৃত্যু হয় ।
ফিরতি যাত্রাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। শনিবার সকালে যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কে যাত্রীচাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। বাস, পিকআপ ও ট্রাকে করে যেভাবে পারছে ঢাকার পথে ছুটছে মানুষ। বাড়তি ভাড়ার অভিযোগও উঠেছে সবার মুখে।
বগুড়া থেকে আসা বেলাল হোসেন বলেন, “বাসের প্রতিটি আসনের জন্য ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা চাচ্ছে। দাঁড়িয়ে যেতে চাইলে নিচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। আগে এই রুটে ভাড়া ছিল অর্ধেকেরও কম।”
এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে আজ রোববার সচিবালয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সকাল ১১টায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সভাপতিত্ব করবেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম । এর আগে ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল ।
